কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ এ ১০:০০ AM
কন্টেন্ট: পাতা
বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কৃষিনির্ভর। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির চলমান অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিমালা ও উদ্যোগের ফলে দেশ এখন খাদ্য শস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষি খাতের উন্নয়নের কারণে দারিদ্র্য বিমোচন এবং দেশের বিস্তৃত গ্রাম বাংলার জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের অন্যতম লক্ষ্য ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমাজ গঠনে কৃষি খাত সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগের গাইড লাইন অনুযায়ী কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিকট স্বল্প সুদে ঋণ প্রবাহ পৌঁছাতে সহায়ক হবে। কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পল্লী অঞ্চলে গ্রামীণ অর্থায়নের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনেও এ নীতিমালা অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
(১) পুনর্বাসন ঋণ গ্রহণে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ
বিনামূল্যে সরবরাহকৃত ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদন ফরমে আবেদন দাখিল;
ঋণ আবেদনপত্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে তোলা ঋণ গ্রহীতার পাসপোর্ট আকারে সত্যায়িত ২ (দুই) কপি ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি প্রদান;
“কৃষি উপকরণ ও সহায়তা কার্ড” একজন কৃষকের পরিচয় বহন করে ফলে একজন কৃষকের “কৃষি উপকরণ ও সহায়তা কার্ড” প্রদর্শন গুরুত্বপূর্ণ বিধায় উক্ত কার্ড এর সত্যায়িত ফটোকপি জমা প্রদান করতে হবে অথবা প্রকৃত কৃষক মর্মে উপজেলা কৃষি অফিস হতে গৃহীত সনদপত্র প্রদান করতে হবে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা/স্থানীয় কর্তৃপক্ষ/যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রকল্প/খামার স্থাপনে অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে হবে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
অভিজ্ঞতা/প্রশিক্ষণের সনদপত্র, চারিত্রিক এবং জাতীয়তা সনদপত্র গ্রহণ করতে হবে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
কোম্পানীর ক্ষেত্রে মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন, আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোম্পানীর রেজুলেশন গ্রহণ করতে হবে। কোম্পানীর সম্পদ কোম্পানী সমূহের নিবন্ধকের সহিত ব্যাংকের অনুকূলে ১ম চার্জ নিবন্ধীকৃত হতে হবে। প্রত্যেক পরিচালকের নিকট থেকে ব্যক্তিগত জামিননামা গ্রহণ করতে হবে;
অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড অংশীদারিত্ব দলিল/চুক্তিপত্র গ্রহণ করতে হবে;
ঋণগ্রহীতা/জামিনদাতার বিদ্যুৎ বিলের কপি দিতে হবে।
(২) ঋণ সীমা:
পল্লী অঞ্চলে আয়-উৎসারী কর্মকান্ডের জন্য সর্বোচ্চ ৫.০০ (পাঁচ) লক্ষ টাকা;
ব্যাংক-এমএফআই/এনজিও লিংকেজের আওতায় ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা ৫.০০ (পাঁচ) কোটি টাকা।
৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়ক জামানত মুক্ত। এক্ষেত্রে ব্যাংকের নিকট গ্রহণযোগ্য একজন পারিবারিক সদস্য এবং একজন ঋণ পরিশোধে সক্ষম পরিবারের বাইরের সদস্য জামিনদার গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকের নিকট গ্রহণযোগ্য দুই জন স্বচ্ছল জামিনদারের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি সাপেক্ষে ঋণ প্রদান করতে হবে।
৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকার অধিক ঋণের ক্ষেত্রে এই নীতিমালার (৫) ধারা মোতাবেক সহায়ক জামানত বন্ধক গ্রহণ করতে হবে।
(৩) ঋণের মেয়াদঃ ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) বছর।
(৪) ঋণের পরিশোধসূচীঃ ঋণের ধরন অনুযায়ী কিস্তিতে ঋণ পরিশোধিত হবে।
(৫) সুদের হারঃ কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯% (পরিবর্তনশীল)।
(৬) সেবা প্রদানের সময়সীমাঃ যথাযথ কাগজপত্রসহ আবেদন প্রাপ্তির পর ১৫ (পনেরো) কর্মদিবস।
বিঃ দ্রঃ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে গ্রাহক পর্যায়ে স্বল্পসুদে ঋণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তার জন্য সকল প্রকার কৃষি ও পল্লী ঋণে নির্ধারিত সুদ ব্যতীত অন্য কোন প্রকার চার্জ, প্রসেসিং/মনিটরিং ফি নেই।
(৭) ঋণ প্রদানকালে কোন অভিযোগ/অনিয়ম হলে সরাসরি যোগাযোগ করুনঃ https://www.grs.gov.bd/